কৃষিতে অতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে হাওড়ের মৎস্যসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন - মৎস্য উপদেষ্টা

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারি » কৃষিতে অতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে হাওড়ের মৎস্যসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন - মৎস্য উপদেষ্টা
রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫



কৃষিতে অতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে হাওড়ের মৎস্যসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন - মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, হাওড় বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্যসম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট বোরো ধান উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক হাওড়াঞ্চল থেকে আসে। কিন্তু কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে হাওড়ের মৎস্যসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

উপদেষ্টা আজ কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের নিবন্ধিত মৎস্যজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, হাওড়াঞ্চলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় কৃষিখাতে বালাইনাশক ব্যবহার সীমিত করতে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ অঞ্চলে কীভাবে কৃষিতে বালাইনাশক কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যায় এবং একই সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। এ সংক্রান্ত যে ঘোষণা আসবে, তা সবাইকে মেনে চলতে হবে।

ফরিদা আখতার বলেন, বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে হাওড়ে প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটছে। জমিতে পলির পরিবর্তে এখন বালি জমছে, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। আবার সব প্রাকৃতিক পরিবর্তন প্রকৃতির সৃষ্টি নয়, অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য মানুষ দায়ী। অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু দুষ্টু মানুষ অবৈধ জাল ও ইলেকট্রনিক শক ব্যবহার করে মাছ ধরছে, যা ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষ হয়ে কীভাবে এমন ক্ষতি করা সম্ভব?

উপদেষ্টা বলেন, হাওড়ে পর্যটকরা ভ্রমণে এসে পরিবেশের ক্ষতি করছে অথচ তারা স্থানীয় মানুষের কষ্ট বোঝেন না। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়ক-সড়ক নির্মাণে যথেষ্ট ব্রিজ ও কালভার্ট না থাকায় পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। আরো ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা গেলে মাছের চলাচল সহজ হবে এবং সবাই উপকৃত হবেন। ইজারা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ হাওড়ে বর্তমানে ৪৫টি ইজারামুক্ত জলাশয় ও ৩১২টি ইজারাকৃত জলাশয় রয়েছে। সরকার চায় প্রকৃত মৎস্যজীবীরাই যেন ইজারা পায়—সে লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ হচ্ছে।

পরে উপদেষ্টা গাবতলী ব্রিজ সংলগ্ন ইটনা হাওড়ে ৫৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করেন।

সভায় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমতের সভাপতিত্বে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: আবদুর রউফ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মোঃ আব্দুল্লা আল মামুন বক্তৃতা করেন। এছাড়া ইটনা উপজেলার মৎস্যজীবী প্রতিনিধি মোঃ স্বপন মিয়া, মিঠামইন উপজেলার প্রতিনিধি মোঃ আজিজুর হক এবং অষ্টগ্রাম উপজেলার প্রতিনিধি মোঃ কাকন মিয়া বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ হাওড় অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২:২১:২৬   ৫ বার পঠিত  




ছবি গ্যালারি’র আরও খবর


চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের চমক
কৃষিতে অতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে হাওড়ের মৎস্যসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন - মৎস্য উপদেষ্টা
ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হলে করে লাভ কী, প্রশ্ন আলী রীয়াজের
দেশে বর্তমান ভোটার ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪: ইসি সচিব
আমাদের সম্পর্কে ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত, জিনপিংকে মোদি



আর্কাইভ