
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুজনিত রোগ ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসায় দেশের প্রথম সর্বাধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে (লেকচার হল-কক্ষ নং-৫০৭) দেশের প্রথম সর্বাধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সাইদুর রহমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ইয়েন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম।
প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীসহ রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস শাকুর।
অনুষ্ঠানে থেকে জানানো হয়, চীন সরকার বাংলাদেশকে রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালুর জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি দিয়েছেন। এ সেন্টারটি বাংলাদেশের প্রথম রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। এ সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান আহতদের মধ্যে যারা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভুগছেন ও পুনবার্সনের প্রয়োজন তারা এ সেন্টারের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন। চিকিৎসা ব্যয়ও যতটা সম্ভব রোগীদের সাধ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সেন্টারটি চালু হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যেসব (সংশ্লিষ্ট রোগীরা) রোগীরা বিদেশ যায় তারা এখানে চিকিৎসা নিতে পারবেন, এতে করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান ও রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস শাকুর বলেন, রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার দক্ষিণ এশিয়াতেই খুব একটা নেই বললেই চলে। এ সেন্টারে রয়েছে ৬২টি রোবট।
এরমধ্যে এআই বেসইসড রোবটের সংখ্যা ২২টি। এর মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপিসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। জুলাই ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন বিশেষ করে যাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন তারা এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এছাড়াও সব ধরনের স্ট্রোকের রোগী, নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার বা স্নায়ুবিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, প্যারালাইসিসজনিত সমস্যা, ফ্রোজেন শোল্ডার, নার্ভের ইনজুরির ফলে দুর্বলতা, অবশজনিত সমস্যা, শরীরের কোথাও শক্ত হয়ে যাওয়া, অ্যাক্সিডেন্ট ও ইনজুরিজনিত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা এমন অসংখ্য রোগ ও সমস্যায় থাকা দেশের মানুষ এ সেন্টার থেকে চিকিৎসাসেবা পাবেন ও উপকৃত হবেন। এ ধরনের রোগীরা এ সেন্টার থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন।
উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত প্রযুক্তি অনুসরণ করে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এ সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ সেন্টারে চীন সরকার প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক রোবটিক যন্ত্রপাতি দিয়েছে, যা এ কেন্দ্রকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবোটিক রিহ্যাব সেন্টারে পরিণত করেছে।
সেন্টারটিতে মোট ৫৭টি রোবট রয়েছে, এর মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই)। রোগীর অবস্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব রোবট অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করতে পারবে।
এ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য চীনের ৭ সদস্যবিশিষ্ট বায়োমেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ দল এরই মধ্যে ২৯ জন দেশীয় চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এ পুনর্বাসন কেন্দ্র বিশেষভাবে উপকারে আসবে স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, নার্ভ ইনজুরি, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, দুর্ঘটনাজনিত দুর্বলতা, ফ্রোজেন শোল্ডারসহ বিভিন্ন স্নায়ুবিক রোগে আক্রান্তদের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান। এ রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু হওয়ায় দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এটি প্রযুক্তির অগ্রগতি তো বটেই, একই সঙ্গে পক্ষাঘাত ও স্নায়ুবিক সমস্যায় থাকা অসংখ্য মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে থেকে জানানো হয়, ২০২৪ সালে জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত হয়ে যারা এখনো পঙ্গুত্বের সঙ্গে লড়ছেন, তাদের জন্য বিনামূল্যে এ রোবটিক চিকিৎসাসেবা এরই মধ্যে শুরু করেছে। এখন থেকে এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সাধারণ রোগীদের জন্যও উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেবার খরচ রোগীদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকবে বলে জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্টদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১১:২৯ ৩ বার পঠিত