
তুরস্কের বন্দর ও আকাশসীমায় ইসরায়েলি বাহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ কথা বলেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পার্লামেন্টারি অধিবেশনে ফিদান বলেন, আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছি। এখন থেকে আমাদের বন্দরে ইসরায়েলি জাহাজের প্রবেশাধিকার নেই এবং আমাদের জাহাজও ইসরায়েলি বন্দরে ভিড়বে না।
বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের বন্দর ও আকাশপথ হয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র-গোলাবারুদ আমরা নিয়ে যেতে দেব না।
তুরস্কের এক কূটনীতিবিদ ফিদানের বক্তব্যের বিষয়ে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা দেওয়া অফিসিয়াল ফ্লাইট এবং অস্ত্রশস্ত্র বহনকারী ফ্লাইটের কথা বলেছেন। সাধারণ বাণিজ্যিক বিমান এর আওতাভুক্ত নয়।
পার্লামেন্টের বক্তব্যে ফিদান সামান্য তথ্য দিলেও ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তুরস্কের ইতোমধ্যে গৃহীত বা শিগগিরই কার্যকর করতে যাওয়া পদক্ষেপের একটা সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন তিনি।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে আসছে আঙ্কারা। তেল আবিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত করে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে বরং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়ে আসছে তুরস্ক।
গত সপ্তাহে তুরস্কের একাধিক কর্মকর্তা রয়টার্স প্রতিনিধিকে জানায়, শিপিং এজেন্টদের কাছে ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে জাহাজে বহনকারী পণ্যের বিবরণ সংক্রান্ত নথি বা চিঠি দেখতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। জাহাজে কোনও সামরিক বা ঝুঁকিপূর্ণ কার্গো নেই এবং তার গন্তব্য ইসরায়েল নয়- নথিতে এমন বক্তব্য থাকা প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তুরস্কের পতাকাবাহী জাহাজকে ইসরায়েলি বন্দরে ভিড়তে নিষেধ করা হয়েছে।
গাজায় ত্রাণ সরবরাহে এয়ার ড্রপের (উড়োজাহাজ থেকে ত্রাণ ফেলা) জন্য প্রেসিডেন্টের অনুমতি পাওয়া গেছে বলেও পার্লামেন্টে উল্লেখ করেছেন ফিদান। তিনি বলেন, আমাদের উড়োজাহাজ প্রস্তুত আছে। জর্ডানের দিক থেকে সবুজ সংকেত পেলেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
ফিদানের বক্তব্যের বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের তরফ থেকে কোনও তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৫:১১ ৪ বার পঠিত